***Our sacrifice is to please Allah (SWT) only. Please try to come to the place of Eid Salah having ablution (Odhu).
***লোক দেখানো ইবাদত থেকে আল্লাহ (সঃ) আমাদের হেফাযত করুন। দয়া করে ওযূ করে ঈদের সালাতে আসবেন, ওযূর স্থানের স্বল্পতা রয়েছে।

চন্দ্র বিভ্রাট

কোনো এক বিধ্বস্ত ধূসর সন্ধ্যা। স্কটল্যান্ডের গগণে কমলাভ এক বিষাদময় চাঁদ উদিত হলো।চাঁদের সিকিভাগ যেন কোনো কারণে কেউ ছুরি দিয়ে কেটে নিয়েছে। বিবিসি চ্যানেল থেকে গম্ভীর কন্ঠে সংবাদপাঠক বলে চললো, “At last, the devastating day of Destruction or Doomsday has ha…ppened across the Middle East.” ঠিক ২৪ ঘন্টা পরের কথা। এটিএন বাংলার সংবাদপাঠিকার মস্তকে ঘোমটার আবরণ দেখা গেল। নিশ্চয় আল্লহভীতি দেখানোর মতো কোনো কারণ ঘটেছে!জানা গেল কিছুক্ষণ পরেই। ভয়ার্ত কন্ঠে সে বললো, “ইউরোপ,আমেরিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার সকল যায়গায় আজ সেই মহাপ্রলয় দেখা গিয়েছে। মানুষ তো দূরের কথা, সেই মহাদেশের অস্তিত্বই এখন খুজে পাওয়া যাচ্ছে না পৃথিবীর মানচিত্রে। এই উপমহাদেশের সকল জীবিত সত্ত্বাকে তাই সতর্ক হয়ে জীবনের শেষ প্রহর কাটানোর জন্য উপদেশ দেয়া হচ্ছে।” আরো ২৪ ঘন্টা পরের ঘটনা। এবারে উপমহাদেশেও সেই মহাপ্রলয়ের আগমন ঘটলো। কিন্তু, সতর্ক করে দেবার মতো কোনো জীবন্ত সত্ত্বা তখন পৃথিবীর বুকে টিকে নেই। পাঠক সমাজ হয়তো আমাকে পাগল ভাবছেন। কিংবা মনে করছেন আমি রসিকতা করছি। ব্যাপারটা মোটেই সেরকম কিছু নয়। ব্যাপারটি আপনারা চালাক হলে, আমি কি বলতে চাচ্ছি আগেই বুঝতে পেরেছেন আশা করি।আর বুঝতে না পারলেও ভয় নেই। খুবই সহজ বিষয়। মিনিট দশেকের একাগ্রচিত্ত আপনাকে এই মহামূল্যবান বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন করে দিবে। তার আগে কিছু সাহিত্যের কথা বলে নেই।

কবিদের কবিতায় কিংবা গদ্যকারের গদ্যে আকাশের গোলাকার যে বস্তুটি নিয়ে সবচেয়ে বেশী মাতামাতি লক্ষ্য করা যায়; যে বস্তুটি হাতে পাবার লোভ দেখিয়ে ছোট্ট শিশুকে মা ভাত খাওয়ান; যে বস্তুটি বৈধ এবং অবৈধ ভালবাসা উভয় ক্ষেত্রেই উপমা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেটা হচ্ছে চাঁদ- পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এই বস্তুটি কেবল সাহিত্যিকদের সাহিত্যরসের রসদই নয়; এটা বিভিন্ন ব্লকের আলিমদের একটি বিতর্কের মাধ্যমও বটে। চন্দ্র দেখে মাস শুরু করার যে বিষয়টিতে রাসূল(স) এর সময়ে কোনো ধানাই-পানাই ছিলো না; যে বস্তুটির ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্লাসিকাল স্কলাররা একমত; সে বিষয়ে বর্তমান সময়ে মতানৈক্য মহামারী আকার ধারণ করেছে। এবং আরো মজার বিষয় হচ্ছে, চাঁদ দেখে রোজা রাখার বা ঈদ করার বিভিন্ন কায়দা কানুন দিয়ে আমরা কে কোন দলের বা কোন ব্লকের সেটার হিসেব কষতে থাকি;যদিও সেটা ইসলামের জন্য ক্ষতিকর,তা সত্ত্বেও। এবারে কিছু বাস্তব অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করা যাক।

১) যদি কিয়ামত ১০ই মহররম,শুক্রবার (সেটার দলীল আমার কাছে নেই) হয়ে থাকে তবে কি তা সৌদি আরবের ১০ তারিখ? নাকি ইউরোপের? না বাংলাদেশের? এ কথাটা যদি সত্য হয়ে থাকে যে, সেই নির্দিষ্ট দিনেই কিয়ামত হবে; তবে এই নোটের প্রথম তিন প্যারা কল্পনা নয়; বাস্তব সত্য মাত্র।

২) আমরা সকলেই জানি হজ্জ্বের সময় জিলহজ্জ্ব মাসের ৯ তারিখ আরাফাতের ময়দান ভ্রমণ করতে হয়।এই আরাফার দিনে রোজা রাখা সুন্নত। তো ব্যাপারটা হচ্ছে, হাজীরা তো সৌদি আরবের ০৯ তারিখ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন;কিন্তু আমাদের দেশের তো তখন জিলহজ্জ্ব মাসের ০৮ তারিখ কিংবা ০৭ তারিখ থাকে, ০৯ তারিখ না। তাহলে আমরা কেন ০৭ কিংবা ০৮ তারিখে রোজা রাখবো ?

৩) আরবী বছরে একটি রাত আছে, যে রাতে ইবাদত করা হাজার বছর ইবাদতের চেয়েও উত্তম। যদিও নির্দিষ্ট করে বলা নেই কবে এই মহিমান্বিত রাত্রি বা লাইলাতুল ক্কদর,তবুও অনেক আলিম,স্কলার আর মুহাদ্দীসদের মতে এটি রমজানের ২৭ তম রজনীতে হবার সম্ভাবনা বেশি। তাই যারা বেশী পাপ কাজ করেছেন, তারা সৌদি আরব, ইউরোপ আর বাংলাদেশ ভ্রমণ করলে টানা তিন রাত এই অসামান্য ফায়দা লাভের সুযোগ পেয়ে যাবে।

৪) ধরুণ কোনো ব্যাক্তি রমজানের শুরুতে বাংলাদেশে ছিলো। দূর্ভাগ্যজনকভাবে সেদিন এখানের চাঁদ দেখা যায়নি।তাই বাধ্য হয়েই রোজা শুরু করলো পরের দিন।তো সেই লোকের ধরুণ কাজের খোজে সৌদি আরবে পাড়ি জমানোর সুযোগ পেল মধ্য রমজানে। এখন সেখানে গিয়ে সে দেখলো, রোজা দুই দিন আগে শুরু হয়েছে(কারণ চাঁদ উঠতে দেখা না গেলেও তারা এস্ট্রোনোমিকাল ক্যাল্কুলেশন করে নাকি ঠিক করেছে যে চাঁদ কবে দেখা যেতে পারে। আর এভাবেই নাকি তারা আগের দিনেই রোজা শুরু করে দিয়েছে)। তা  সৌদি আরবে ২৯ রোজার পরের দিন ঈদ হলো। এখন সেই হতভাগা ব্যাক্তি কি ২৭ রোজা রেখেই ঈদ করবে? (এ কেমন কথা!!) পক্ষান্তরে, সৌদি থেকে রোজার শুরুতে কেউ বাংলাদেশে এসে রমজানের মধ্যভাগ পেলে তার ঈদ হবে তার রাখা ৩১ কিংবা ৩২ রোজার পর!! এটাও কেমন জানি দৃষ্টিকটু লাগছে!

৫) ধরুণ এই রমজানে কোনো কারণে ভারত আমাদের সীমান্তের কোনো জেলা দখল করে সেটাকে তার কোনো অঙ্গরাজ্যের দ্বারস্থ করে দিলো। এখন সে জেলার লোকেরা যদি ওই রাজ্যের একদিন পরে রোজা শুরু করে আর ঈদ হয় ২৯ রোজার পরে,তাহলে কি এই জেলার লোকেরা এখন ২৮ রোজায় ঈদ করবে(কারণ চাঁদ তো দেখা গেছে)?? এবারে আসা যাক চাঁদ দেকে মাস শুরু করা নিয়ে কিছু সাধারণ বিভ্রাটের কথায়।

কোরআনে বলা হয়েছে, “Whoever witnesses the crescent of the month, he must fast the month.” [Sura Baqara-2:185] অর্থাৎ, “তোমরা যারা রমজান মাসের চাঁদ দেখ,তারা রোজা রাখ।” এখানে কিন্তু, যারা চাঁদ দেখেছে তাদেরকে রোজা রাখার কথা বলা হয়েছে। তো প্রশ্ন হলো, আপনি জীবনে কয়বার চাঁদ দেখে রোজা শুরু বা শেষ করেছেন? যদি আপনি স্বচক্ষে চাঁদ দেখে না থাকেন,তাহলে কি রোজা হবে না? আমি তো জীবনের সব রমজানের বা ঈদের চাঁদ দেখে রোজা বা ঈদ পালন করিনি। চাঁদ দেখা কমিটির কারা কারা আছে,ওদের কথা শুনেই শুরু করে দিলাম। তার মানে শাব্দিক অর্থে এটা বলা হয়নি,এটার Implicit কোনো meaning আছে।কি সেই অর্থ? একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন যে,এখানে চাঁদ দেখে নিশ্চিত হবার কথা বলা হয়েছে, সেটা একজনি দেখুক,অনেকেই দেখুক কি অধিকাংশই দেখুক। শর্ত হচ্ছে, যারা চাঁদ দেখবে তাদেরকে বিশ্বাসযোগ্য, সত্যবাদী মুসলিম হতে হবে। সে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের মুসলিমই হোক না কেন, বিশ্বাসী হলে তার কথার সত্যতা গ্রহণ করতে হবে।

এখন আরেকটা প্রশ্ন থেকে যায়, তা হচ্ছে এটার কোনো সীমানা আছে নাকি। অর্থাৎ,ভৌগোলিক সীমানা এখানে কোনো নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে নাকি। গতকাল কোন এক সাইটে দেখলাম বেশ জোর গলায় বলছে, যে কোনো দেশের আলিমরা যেটা মেনে নেন সেটাই আমরা মেনে নিতে বাধ্য থাকবো। কিন্তু, আমার প্রশ্ন হচ্ছে, সব দেশের যেসব আলিমরা সরকারের দ্বারস্থ হোন, তারা যতটা না জ্ঞানের কারণে পদবী পান, তার চেয়ে বেশী পান বিলকুল হারাম বস্তু বা কাজকে হালাল করে কিংবা ইসলামকে সেকুলারাইজ করে। ব্যাপারটা বুঝার জন্য খুব বেশী জ্ঞানী হওয়ার দরকার নেই যে বর্তমান যুগে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতির আসনে সে আলিম বসতে পারবেন না যিনি রাজতন্ত্রকে হারাম বলেন। একইভাবে বাংলাদেশের বায়তুল মোকাররমের খতীব হওয়ার প্রধান যোগ্যতা থাকতে হবে গণতন্ত্রের মত স্পষ্ট শিরককেও বৈধ ঘোষণা করা। একইভাবে শেয়ার ব্যবসা, সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা কিংবা সেকুলার আদালতকে যে যতটা গুছিয়ে, যতটা সুচারুভাবে সাধারণ মানুষের ব্রেইনওয়াশ করে হালাল ঘোষণা করতে পারবে, তার উচ্চাসন ততটাই নিশ্চিত। আর এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার আলিমদেরকে পদবী তো দূরের কথা, অস্তিত্বের জন্যই পুলিশ-র‍্যাবের ভয়ে টতস্থ থাকতে হয়। সে গল্পে পরে আসছি।

এখন অনেকে প্রশ্ন করে বসতে পারেন, সব দেশে তো আমরা একই সময়ে সেহরী-ইফতার করি না কিংবা সালাত আদায় করি না। কথা সত্য। তবে এটার সাথে মাস শুরু করার যে বিন্দুমাত্র যোগসাজশ নেই, তা যে কোনো মানুষের কাছেই বোধগম্য। সূর্য হচ্ছে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এর সময় নির্ধারণ(ফজরের ওয়াক্ত সুবহী সাদিক থেকে এশা শুরুর লক্ষণ সূর্যের লাল আভা না থাকা, সবগুলোই সূর্যের অবস্থানের উপর নির্ভরশীল)। পক্ষান্তরে, চাঁদ দেখার কারণ শুধু মাস শুরু কিংবা শেষ করা। সোজাসাপ্টা কথায় নতুন চাঁদের দ্বারা মাস শুরু হয়, আর সূর্যের বিভিন্ন অবস্থান দিয়ে নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণ হয়। যেমন সেহরী আর ইফতারের সময় ঠিক করে দিয়ে আল্লাহ বলেন- – “And eat and drink until the white thread of dawn appears to you distinct from its black thread; Then complete your fast until the night appears” [TMQ 2:187]” উপরের সব কিছুই আসলে অর্থহীন হবে,সব যুক্তিই অসার মনে হবে যতক্ষণ না আমরা আমদের যে কোনো কাজকে শরীয়াহ দিয়ে প্রমাণ করতে পারি। কারণ, যে কোনো প্রকার অনৈক্য দেখা গেলে আল্লাহ ও তার রাসূলের দিকে ফিরে যাবার কথা বলা হয়েছে এভাবে- “If you differ in anything among yourselves, refer it to Allah and His Messenger, if you believe in Allah and in the Last Day. That is better and more suitable for final determination.” [Sura Nisa-04:59] এখন দেখা যাক, চাঁদ দেখা নিয়ে শরীয়াহ কি বলে। আগের দুইটি আয়াত তো দেখলামই। এবারে কিছু হাদীস দেখা যাক।

Bukhari and Muslim reported on the authority of Abdullah Ibnu Omar (may Allah be pleased with them) that the Messenger of Allah (saw) mentioned Ramadhan and said: “Do not fast till you see the new moon, and do not break fast till you see it; but if the weather is cloudy complete it (thirty days).” Muslim also reported on the authority of Abdullah Ibnu Omar that the Messenger of Allah (saw) said: “The month of Ramadhan may consist of twenty-nine days; so when you see the new moon observe fast and when you see (the new moon again at the commencement of the month of Shawwal) then break it, and if the sky is cloudy for you, then calculate it (and complete thirty days).” এখানে বলা হয়েছে, নতুন চাঁদ(রমজানের) দেখা ব্যতীত রোজা শুরু না করা এবং নতুন চাঁদ(শাওয়ালের) দেখার আগে রোজা ভঙ্গ না করা। এখানে [“Do not fast till you see it and do not break fast till you see it.” – “Do fast when you it is sighted and break fast when it is sighted] বলে কোনো অঞ্চলের মুসলিমদের মধ্যে এই ব্যাপারটি সীমাবদ্ধ করে দেয়া হয়নি।আর এই হাদীসে যে ধাতু ‘সুম্মু’ ব্যবহার করা হয়েছে তার অর্থ ‘রোজা রাখ’ যা আম (সাধারণ) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, বিশ্বের সকল মুসলিমদেরকে Address করে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র সৌদিদেরকে বলা হয়নি। আবার ‘রুয়ায়াতাহ’ শব্দটি এখানে ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ ‘দেখা গেলে’। এখানেও কোনো স্থান,কাল ইত্যাদি দিয়ে এটা সীমাবদ্ধ করে দেয়া হয়নি। অর্থাৎ,এখানেও সকল মুসলিমদের কথা বলা হচ্ছে। এখন আমরা যে প্রশ্নবাণে জর্জরিত তা হচ্ছে, রাসূল(স) কি তার জীবনে কোনোসময় মদীনায় চাঁদ দেখা না গেলেও অন্য অঞ্চলের মুসলিমদের কথা শুনে রোজা শুরু করেছেন কিংবা ঈদ করেছেন? উত্তরটা নিচেই দেয়া আছে:

It is also reported in a Saheeh hadith: Abu ‘Umayr ibn Anas reported from his paternal uncles among the Ansaar who said: “It was cloudy and we could not see the new moon of Shawwaal, so we started the day fasting, then a caravan came at the end of the day and told the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) that they had seen the new moon of Shawwaal the day before, so he told the people to stop fasting, and they went out to pray the Eid prayer the next day.” [Reported by the five. It is sahih; al-Irwaa’, 3/102 Abu Dawud 1153] অর্থাৎ, রাসূল(স) সাহাবীদেরকে রোজা রাখা বন্ধ করে ঈদ করতে বললন। অপর বর্ণনায় এসেছে, তার আগে তিনি যারা সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন তারা মুসলিম কি না সেটা যাচাই করে তাদেরকে কালিমা শাহাদাত পাঠ করিয়ে সাক্ষ্য নিয়ে চাঁদ দেখা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন। যেখানে স্বয়ং রাসূল(স)রোজা ভঙ্গ করেছেন (অন্য যায়গার মুসলিমরা শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখেছে এটা নিশ্চিত হবার পরে), সেখানে আমাদের এটা গ্রহণ করতে এতো দ্বিধাবোধ কেন? কেন আমরা সকল মুসলিম একসাথে ঈদ করার কথা আসলে রাসূল(স) এর জীবনের ঘটনা না দেখে কোন দেশের গ্র্যান্ড মুফতী কি বলেছে সেটা দেখি? ইমাম আবু হানিফা,ইবনে তাইমিয়্যা এবং আরো অনেক ক্লাসিকাল স্কলাররা সকল মুসলিম একই সাথে ঈদ করার স্বপক্ষে শরীয়াহ প্রমাণ দেখিয়েছেন। তবে কি আমাদের কাছে বর্তমান যুগের মুফতী সাহেবদের মতামত রাসূল(স) এর জীবনের উদাহরণ থেকে বেশী দামী হয়ে গেল? যদি তাই হয়, তবে এতক্ষণ যা বললাম তার সবই অর্থহীন।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে জোতির্বিদ্যা বা Astronomy ব্যবহার করে মাস শুরু করা। এখানে Astronomy ব্যবহার করে করাটা ঠিক হতো, যদি তা শরীয়াহ এর হুকুমের সাথে যেত। কিন্তু, ‘রুয়ায়াতাহ’ শব্দটি কেবল মানুষের চোখে একটি বস্তু পর্যবেক্ষণ এর কথা বলে।এখানে যদি বিশ্বের কোনো প্রান্তে বৈরী পরিবেশের কারণে চাঁদ দেখা না যায়, তবুও আমাদেরকে ৩০ রোজা রাখতে হবে। আর যে চাঁদ সারা বিশ্বের সকল প্রান্তে একবার না একবার উঁকি দেয়ই, সে চাঁদ নিশ্চয় সব এলাকায় মেঘের জন্য মানুষের দেখা পাবে না এমনটা ঘটবে না। সৌদি আরবে গতবার এই কারণে ঈদুল আজহা একদিন আগে হয়েছিল। আমাদের করণীয়-

* প্রথমত, আমাদের সজাগ থাকতে হবে যে চাঁদ কোথাও দেখা যায় কিনা। এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে যেখানে এই নিয়ে প্রতি ১০ মিনিট পর পর আপডেট দেয়া হয়। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, আমাদের সজাগ দৃষ্টি। আমরা (মনের সন্তুষ্টির জন্য) যদি বার্সা-রিয়াল, ভারত-পাকিস্তানের খেলা দেখার জন্য রাত জাগতে পারি, তবে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য যে রোজা রাখবো তা নিশ্চিত হয়ে ঠিকভাবে রাখার জন্য কি রাত জাগতে পারবো না। আর সবসময় নিশ্চয় এমনটাই হবে না যে, পসচিমদের দেশেই চাঁদ আগে দেখা যাবে যার জন্য আমাদের না ঘুমিয়ে থাকতে হবে।

*চাঁদ দেখার বিভিন্ন অঞ্চলের সময়ের সর্বোচ্চ পার্থক্য ১০ ঘন্টা।অর্থাৎ, সবচেয়ে পশ্চিমের দেশে সেটা দেখা গেলেও সবচেয়ে পূর্বের দেশে সুবহী সাদিক এর সময় গড়াবে মাত্র। আর আল্লাহ সঠিক পন্থায় আমাদের চেষ্টাটাই লক্ষ্য করবেন। মুসলিমরা একসাথে থাকার সময়, অর্থাৎ ইসলামিক খিলাফাহ এর সময়, যে কোনো অঞ্চলে চাঁদ দেখা গেলে ঘোড়া ছুটিয়ে কিংবা কোনো বিশেষ বাতি জ্বালিয়ে বা শব্দ শুনিয়ে সবাইকে জানিয়ে দেয়া হতো যে নতুন মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে। এইসকল মতানৈক্যের প্রধান কারণ মুসলিমরা আজ তাদের একসাথে থাকার গ্রাউন্ড হারিয়েছে, হারিয়েছে তাদের ভিশন, হারিয়েছে পৃথিবী নেতৃত্ব দেবার রাজনৈতিক ও সামরিক ঐক্য। আর এর সবই হয়েছে প্রায় ১৩০০ বছরের বিচিন্ন সময়ে জয় করা একটা বিশাল ঐক্যবদ্ধ জাতিকে যখন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে ৫৮টি ক্ষুদ্র,অস্থিতিশীল রাষ্ট্রের প্রয়াশ নেয় ইসলামের শত্রুরা। আজ সময় এসেছে আবার রাসূল(স) এর আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পৃথিবী নেতৃত্ব দেবার।

*আমাদের এলাকা-মহল্লার ইমামদের সাথে এই নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন। তারা অনেকেই বিষয়টা জানেন, তবে চাকরী, মসজিদ কমিটি আর পুলিশ-র্যাবের ভয়ে অনেক কিছুই বলতে পারেন না। যেই দেশে ইমামের খুতবা সরকার ঠিক করে দেয়, সেই খুতবা না পড়লে আবার ইমামকে অ্যারেষ্ট করা হয়,যেই দেশে ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ‘ব্যালী ড্যান্স’ দেখানো হয় আর যে দেশের ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশী ভ্রমণ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রদূত(একজন খৃষ্টান) সে দেশে নিশ্চই সেসব আলিমরাই সুখে থাকবেন যারা ইসলামের আসল সত্য লুকিয়ে ইসলামের পাশ্চাত্য ভার্সন বের করবেন।আর আমরা সাধারণ,শিক্ষিত জনতা এই বিষয়ে কথা বললে সমাজের লোকেদের এই বিষয়ে ভুল ভাঙ্গবে।

*‘আজ বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে।‘ আর ‘আজ সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে।’ কথা দুইটির পার্থক্য অনেক। কাফিররা আমাদের বলে, তোমরা তো একইদিনে তোমাদের প্রধান উৎসবই করতে পারো না, তোমাদের আবার Unity কি? তার উপর বাংলাদেশের ঈদ বলে আমাদেরকে মুসলিম পরিচয় ভুলিয়ে অঞ্চলভিত্তিক জাতীগত পরিচয়কে বড় করে দেখানো হচ্ছে।আর আমদের এই গ্লোবাল ঈদ পালন করার সময় অনেক বাধা আসতে পারে,অনেকেই অনেক কিছু বলতে পারে,অনেকেই অসুন্তুষ্ট হতে পারে। তাতে কি। এর দ্বারা আল্লাহ যদি খুশী হন, তাই তো অনেক। কারণ, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই তো আমাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।

web counter free
Copyright © unifiedmoonsight.com